
একজন ফ্রিল্যান্সার এর জন্য ক্লায়েন্ট আউটরিচ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর যদি সেটা হয় নতুন ফ্রিল্যান্সার তার জন্য জানা আরও বেশি জরুরী। বর্তমানে মার্কেটপ্লেসে কম্পিটিশন অনেক বেশি, নতুনদের জন্য কাজ পাওয়া অনেক কষ্টকর। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার হতাশ হয়ে পিছু ফিরে যায় এই কাজের অভাবে। সেজন্য আজ আপনাদের জন্য একটি ক্লায়েন্ট আউটরিচ গাইডলাইন নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।
ক্লায়েন্ট আউটরিচ কি?
ক্লায়েন্ট আউটরিচ বলতে আপনি যেই সার্ভিস প্রোভাইড করেন সেই সার্ভিস এর জন্য যারা পোটেনশিয়ালস কাস্টমার আছেন, তাদের সাথে যেকোনো ভাবে যোগাযোগ করে আপনার ক্লাইন্টে কনভার্ট করে আপনার সার্ভিস সেল করা। কথা গুলো কঠিন মনে হতে পারে, সহজ ভাবে বলতে আপনার সার্ভিস সেল করার জন্য একজন কাস্টমার খুজে বের করার প্রসেসকে ক্লায়েন্ট আউটরিচ বলে।

এজেন্সি বিজনেস এ সফল হবার আপডেটেড টিপস প্রাকটিকাল শিখুন আমাদের এজেন্সি মাস্টারমাইন্ড কোর্স এ।
অনেকে অনেক ভাবে আউটরিচ করে। সেগুলো নিয়ে নিচে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মূল বিষয় সেল করা। আর যেটা অনেকেই পারেন না। আশাকরি আমাদের এই ব্লগটি পড়া শেষে আউটরিচ নিয়ে একটি ভালো ধারণা পেয়ে যাবেন ।
আউটরিচ স্ট্রাটেজি কি এবং কয়টি?
সবকিছুর’ই একটা স্ট্রাটেজি রয়েছে। প্রফেশনাল যেকোনো কাজে আপনাকে স্ট্রাটেজি ফলো করতে হবে। আউটরিচের ক্ষেত্রেও সেটা আলাদা নয়।

ক্লায়েন্ট আউটরিচ এর জন্য আমরা দুটি স্ট্রাটেজি ফলো করতে পারি।
১। ইনবাউন্ড
২। আউটবাউন্ড
ইনবাউন্ড স্ট্রাটেজি কি?
এটি এমন একটি মাধ্যম যেখানে ক্লায়েন্ট নিজে আপনাকে খুজে বের করে সার্ভিস কিনবে। কিন্তু এটা বিল্ড করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, যে কেন ক্লায়েন্ট আমাকে খুজে আমার সার্ভিস নিবে। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, ধরুন আপনি একজন ব্রেইনের ডক্টর দেখাবেন। আশেপাশে অনেক ডক্টর আছে, কিন্তু সবাই কিন্তু কোয়ালিটিফুল না। তখন আপনি কি করবেন? বিভিন্ন মানুষের কাছে খোজ নিবেন, গুগলে সার্চ করবেন, আপনার মতো যাদের এই সমস্যা ছিল তাদের সাথে কথা বলবেন। তারপর একজন ডক্টরকে সিলেক্ট করবেন।
এখানে আপনি সেই ডক্টরের কাছে ইনবাউন্ড মেথডে পৌছালেন। সেই ডক্টর তার সার্ভিস এর মান মানুষের মুখে মুখে পৌছেছেন। আর এই প্রক্রিয়ায় তার অনেক সময় দিতে হয়েছে। নিজেকে একজন দক্ষ এবং কোয়ালিটিফুল ডক্টর হিসেবে সকলের কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। আমরা এক একটা সেক্টরে যারা কাজ করি, সেই সকল সেক্টরের যারা বড় বড় এক্সপার্ট আছেন তাদেরকে আমরা চিনি। তারাও একসময় নতুন ছিল। আমরাও নতুন, সঠিক ভাবে প্লানিং করে আগালে আমারাও এভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। Digital Wit Academy এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা হয়ে আসছে তাদের স্টুডেন্ট দের।
আউটবাউন্ড স্ট্রাটেজি
মুলত এই মাধ্যমেই আমরা ক্লায়েন্ট আউটরিচ করে থাকি। এখানে সেলার বিভিন্ন মাধ্যমে ক্লায়েন্টকে খুঁজে বের করে তার সার্ভিস সেল করেন।
ম্যাক্সিমাম ফ্রিল্যান্সার এই মেথডকেই ফলো করে। কিন্তু এই মাধ্যমে সাক্সেস হতে আপনাকে কমিউনিকেশন স্কিল বিল্ড করতে করতে হবে। একজন ক্লায়েন্ট এর সাথে এমন ভাবে কথা বলতে হবে যাতে সে ইমপ্রেস হয়ে আপনার থেকে সার্ভিস নিবে।
নতুনদের জন্য একটি সমস্যা, তারা জানেন না কিভাবে একজন পোটেনশিয়াল ক্লায়েন্ট কে মেসেজ বা মেইল দিতে হবে। সাধারণ ভাবে বলতে, ক্লায়েন্টকে তার সমস্যা গুলো ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে, সে সি সমস্যা গুলোর সমাধান করলে কি ধরনের লাভবান হবে। এ নিয়ে তাকে বিস্তারিতভাবে বোঝাতে হবে। এবং একটি ওয়ার্কিং প্ল্যান দিতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্লায়েন্ট আপনার থেকে সার্ভিস নিবে।
আউটবাউন্ড স্ট্রাটেজি এর কয়েকটি মেথড আছে, যেগুলো নিয়ে Digital Wit এর ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত ভিডিও দেওয়া আছে। এছাড়াও Digital Wit Academy তাদের Students ক্লায়েন্ট আউটরিচ মেসেজ টেমপ্লেট দিয়ে থাকে।
পরিশেষে
একজন ফ্রিল্যান্সার তখনই সফল হয়, যখন সে তার সার্ভিস প্রতিনিয়ত সেল করতে পারে। আর এজন্য ক্লায়েন্ট আউটরিচ এর কোন বিকল্প নেই। সঠিক ভাবে ক্লায়েন্টকে আউটরিচ করতে পারলে, অবশ্যই সে ক্লায়েন্ট পাবে। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর রিসার্চ এবং প্রাক্টিস। প্রতিদিন ১০-২০ টি আউটরিচ করার অনুশীলন করলে সেলার তার কনফিডেন্স বুস্ট করতে পারবেন এবং তার ভুল গুলো ধরতে পারবেন। এ ব্যাপারে কোন সাপোর্ট এর প্রয়োজন হলে Digital Wit আপনার পাশে আছে।