
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি?
🎯 সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি – কথাটা শুনলেই বোঝা যায় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন মার্কেটিং এর কথা বোঝানো হয়েছে । ডিজিটাল মার্কেটিং কি ? এ সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে কথা বলেছি । সেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা সেক্টর হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। এ নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব নিচে সেই সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করা হবে। আশাকরি আপনারা উপকৃত হবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি?
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার বা পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করাকে মূলত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে।
আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় অনেক বিজ্ঞাপণ দেখে থাকি, সেগুলো ভালো লাগলে আমরা বিজ্ঞাপণের ভেতরে ঢুকে কেনা কাটা করে থাকি। আর এটাই মূলত এই মার্কেটিং এর কাজ।
শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ দেওয়াই এর মূল কাজ না। একটা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আরো অনেক কাজ রয়েছে যা আমরা নিচে জানব।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কাজ কি?
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মূলত বিভিন্ন সোশ্যাল প্লাটফর্মে করা হয় যেমনঃ ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি। এখন আপনাদের মধ্যে প্রশ্ন আসতে পারে যে, এখানে আবার কিসের মার্কেটিং। এসব তো যোগাযোগ করার মাধ্যম বা বিনোদন মাধ্যম। জি হ্যাঁ, বর্তমান বিশ্বে সবথেকে বড় মার্কেটিং প্লাটফর্ম হলো এই মাধ্যম।
ধরুন আপনার একটি দোকান আছে আপনি সেটাকে ফেসবুক পেইজে শিফট করবেন। কিভাবে করবেন সেগুলো নিয়ে নিচে একটি ব্যাসিক ধারণা দেওয়া হলোঃ
১। আপনার ব্র্যান্ডের নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল খুলতে হবে।
২। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পেইজ খুলতে হবে।
২। পেইজে আপনার ব্যবসায়ের সকল তথ্য দিয়ে অপটিমাইজেশন করতে হবে।
৩। আপনার ব্র্যান্ডের জন্য আকর্ষণীয় লোগো এবং কভার ফটো দিয়ে ডেকরেশন করতে হবে।

আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়ার বস হতে চান ?
সোশ্যাল মিডিয়ার বস হতে হলে কি কি জানতে হবে এবং কি কি শিখতে হবে ? সকল তথ্য পেতে ডিজিটাল উইট আছে আপনাদের পাশে।
৪। প্রতিনিয়ত প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও করে পোস্ট করতে হবে, দিনে অন্তত ২-৩ টা পোস্ট করতে হবে। মনে রাখতে হবে একই ধরনের পোস্ট করা যাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের কোর্সে বিস্তারিত দেওয়া আছে।
৫। কন্টেন্ট ক্যালেন্ডার ফলো করতে হবে। কোনদিন কোন কন্টেন্ট পোস্ট করবেন সেটা আগে থেকেই একটা শিটে রেডি করে রাখতে হবে।
৬। হ্যশট্যাগ রিসার্চ করতে হবে, প্রতিটা পোস্টে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
৭। একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলতে হবে, আপনার পেইজের ফলোয়ারদের সেখানে যুক্ত করতে হবে।
৮। পেইজে নানা রকম অফার দিতে হবে, মনে রাখতে হবে প্রথম প্রথম আপনাকে কম প্রফিট করতে হবে এবং পেইজে ফলোয়ার বাড়াতে হবে।
৬। বিভিন্ন পেইড এড ক্যাম্পেইন দিতে হবে আপনার ব্যবস্যা রিলেটেড কাস্টমারকে টার্গেট করে। অবশ্যই আপনাকে আপনার কাস্টমার রিসার্চ করে নিবেন। কিভাবে কাস্টমার টার্গেট করে এড রান করতে হয় তা নিয়ে বিস্তারিত দেওয়া আছে আমাদের ইউটিউবে।
এগুলো আসলে ব্যাসিক ধারণা। এর প্রত্যেকটি ধাপে্রই এডভান্স লেভেল আছে। এসব নিয়ে জানতে জয়েন করুন Digital wit Academy এর ফ্রী ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব কী?
বর্তমান সময়ে মানুষ তার সবথেকে বেশি সময় ব্যয় করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আগের মতো টিভি রেডিও কেউ এখন আর দেখে না। আর এর মূল কারন মোবাইল সবার হাতের মূঠোয় মোবাইল থাকার কারণে, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে।
আপনি যেকোনো জায়গায় বসে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন সেই সাথে উপভোগ করতে পারেন বিভিন্ন বিনোদন মূলক ভিডিও বা চিত্র।
আর যেখানে মানুষ বেশি সময় ব্যয় করে সেখানেই তো মার্কেটিং বেশি হবে। তা ছাড়াও অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষ এখন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। কোন কিছু প্রয়োজন হলেই ফেসবুক বা গুগলে সার্চ করে।
ফলে যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখে কি টাকা আয় করা সম্ভব ?
এতক্ষণ যা যা বলেছি সেগুলো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ। আর এই কাজগুলো কোন অদক্ষ ব্যাক্তির পক্ষে করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রয়োজন একজন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এক্সপার্টের। শুধুমাত্র একজন এক্সপার্টই পারে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠা করতে।

বর্তমান সময়ে সবথেকে চাহিদা পূর্ণ দক্ষতাগুলোর মধ্যে এটি একটি। যেমন রয়েছে কাজের সুযোগ তেমন টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে ব্যপক। এটি এমন একটি পেশা যেখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্বে আপনার দক্ষতাকে যাচাই করা হয়। আপনি দক্ষ মানে আপনি যোগ্য।
দেশে বিদেশে বড় ছোট প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই এখন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট নিয়োগ দিচ্ছে। তারা প্রচুর টাকা ব্যয় করে এই সেক্টরে। এই সেক্টরে কাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখন শুধু আপনার দক্ষ হওয়ার পালা।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে কত সময় লাগে?
এটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের এবং যেখান থেকে শিখেছেন সেটার উপর নির্ভর করে। ৩-৪ মাসে আপনি একটি ব্যসিক ধারণা পেয়ে যাবেন। কিন্তু এডভান্স হতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত প্র্যাক্টিস করতে হবে।
আপনি যত প্রাক্টিস করবেন ততই দক্ষ হবেন। সেই সাথে একজন ভালো মেন্টরের সাপোর্ট এর প্রয়োজন আছে। আপনার মেন্টর দক্ষ না হলে আপনার দক্ষ হতে সময় লাগবে। এজন্য কোর্স করার আগে মেন্টর সম্পর্কে জানুন।
পরিশেষেঃ
ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় প্লাটফর্ম মার্কেটিং করার। এই সেক্টরের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। বেকারদের জন্য যা একটি আশীরবাদস্বরুপ। নিজেকে দক্ষ করে আপনিও হতে পারেন একটি দক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার।